শুক্রবার, ৬ জুলাই, ২০১২

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য

আমাদের এই মহাবিশ্ব কি একটাই? নাকি অনেক বিশ্বের ভিড়ে আমাদের এ বিশ্ব নিতান্তই ক্ষুদ্র এক গণ্ডি? সহজ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ৪০০ বছর ধরে বিরামহীন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকেরা। ১৬ শতকের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার থেকে শুরু করে এ যুগের স্টিফেন হকিং পর্যন্ত মহাবিশ্বের রহস্য উদ্ধারে বিভিন্ন তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তবে কসমোলজি বা বিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনে গবেষকদের সাম্প্রতিক গবেষণার ফল বলছে, এই মহাবিশ্বে কোটি কোটি বিশ্বের সঙ্গী আমাদের এই বিশ্ব। অর্থাত্ কোটি কোটি বিশ্ব নিয়ে তৈরি এই অনন্ত বিশ্ব বা মাল্টিভার্স।
আইনস্টাইন বলেছিলেন, বিশ্ব সৃষ্টির সময় স্রষ্টার হাতে আর কোনো বিশ্বের তুলনা ছিল কি না, এ নিয়ে তাঁর যথেষ্ট কৌতূহল জাগে। অর্থাত্ এই বিশ্ব একটাই কি না—তাঁর কাছে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল এটা। আইনস্টাইনের জিজ্ঞাসা ছিল বিস্তীর্ণ ছায়াপথ, অসংখ্য ছায়াপথ ও গ্রহের আবাসস্থল অনন্য বিশ্ব সৃষ্টির ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কি বাঁধাধরা? নাকি আমাদের এই বিশ্ব ছাড়াও অন্য কোথাও একই নিয়মে তৈরি হয়েছে আরও বিশ্ব?
আইনস্টাইনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বর্তমান সময়ের গবেষকদের মনে জন্ম নিয়েছে নতুন প্রশ্নের। প্রতি বছর গাড়ির ক্ষেত্রে যেমন নতুন নতুন মডেল নতুন সুবিধা নিয়ে বাজারে আসে, সেই গাড়ির বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন মানুষের জন্য ব্যবহার উপযোগী করা হয়, তেমনি এই বিশ্বের ক্ষেত্রেও কি নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তন ঘটে? গবেষকদের ভাষ্য, শক্তিশালী টেলিস্কোপ ও লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের মতো কণা বিশ্লেষণ করার যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাব।
বিশ্বের সৃষ্টিরহস্য নিয়ে আইনস্টাইনের পর থেকে আরও গভীর পর্যালোচনা ও গবেষণা করেছেন গবেষকেরা। আইনস্টাইন কেবল পদার্থবিদ্যার সূত্রের মধ্যেই বাঁধতে চেয়েছিলেন এই বিশ্বরহস্যকে। কিন্তু এখন কেবল আর অনুমান বা তত্ত্বনির্ভর নয়, পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ হাজির করতে কাজ করছেন গবেষকেরা। প্রথম দিকের গবেষকেরা কেবল আমাদের বিশ্বের মধ্যে কী রয়েছে, সে গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে গবেষকেদের লক্ষ্য, আমাদের এই বিশ্বের বাইরে অন্যান্য বিশ্বের সন্ধান করা। মাল্টিভার্স বা অনন্ত বিশ্বের ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বিগ ব্যাং তত্ত্ব, ইনফ্ল্যাশনারি কসমোলজি বা স্ফীতিতত্ত্ব ও স্ট্রিং থিওরি। এই তিনটি তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছেন—এমন গবেষকদের ভাষ্য, আমরা অনন্য বিশ্বে নয়, আমরা অনন্ত ও কোলাহলপূর্ণ বিশ্বে বাস করছি। আমাদের বিশ্বের বাইরে যেসব বিশ্ব রয়েছে, সেই বিশ্ব আমাদের বিশ্বের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। এ বিশ্বগুলো তৈরি হতে পারে অন্য কোনো কণায়। সেখানে রাজত্ব করতে পারে অন্য কোনো শক্তি। এ অনন্ত মহাবিশ্বে হয়তো কোলাহলপূর্ণ মহাজাগতিক আলাদা আলাদা বিষয় ছড়িয়ে রয়েছে।
অনন্ত মহাবিশ্ব বা একাধিক বিশ্বের এই তত্ত্ব নিয়ে সব গবেষকেরা একমত নন। অনেকে এই ধারণাকে এখনো অনুমাননির্ভর ও বিজ্ঞানের ব্যাখ্যাতীত ও বাস্তবতা-বিবর্জিত বিষয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা কোন পক্ষে যাব, কী বিশ্বাস করব? অনন্ত মহাবিশ্ব, নাকি একক মহাবিশ্ব? এ সংশয়ের বাধা ও সন্দেহ দূর করতে আমাদের বিগ ব্যাং তত্ত্বের মধ্যে ঢুঁ মারতে হবে।
১৯১৫ সালে ‘জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি’ বা আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রকাশ করেন আইনস্টাইন। মাধ্যাকর্ষণ বল নিয়ে ১০ বছরের গবেষণা শেষে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রকাশ করেন। বিজ্ঞানের অসাধারণ গাণিতিক এক সমীকরণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও পরিণতির একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি কাজে লাগিয়ে ‘স্পেস-টাইম’ বা স্থান-কালের ধারণার যে বিবর্তন ঘটে গেল—তার হাত ধরেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও ভবিষ্যত্ পরিণতির একটা যৌক্তিক ধারণা পাওয়া গেল।
এর পর গবেষকেরা জানালেন, প্রতিনিয়ত সম্প্রসারণ ঘটছে এই মহাবিশ্বের। অর্থাত্ প্রতিটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ পরস্পর থেকে প্রতিনিয়ত দূরে সরে যাচ্ছে। মার্কিন জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবল ১৯২৯ সালে তা নিশ্চিত করেন। গবেষকেরা ভাবা শুরু করলেন, মহাবিশ্ব যদি সম্প্রসারিত হতে থাকে, এই সম্প্রসারণ শুরুর আগে নিশ্চয় মহাবিশ্বের উপাদানগুলো একসঙ্গে প্রচণ্ড ঘনত্ব নিয়ে ক্ষুদ্র অবস্থায় ছিল। সুদূর কোনো অতীতে এই ক্ষুদ্র বস্তুটিই বিস্ফোরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকে। গবেষকেরা এই ঘটনাটিরই নাম দিলেন ‘বিগ ব্যাং’। এ তত্ত্বটি অনেকের সমর্থনও পেল। তবে তাঁরা বিগ ব্যাং তত্ত্বের মধ্যেও দুর্বলতা খুঁজে পেলেন। তাঁদের প্রশ্ন, বিগ ব্যাংয়ের ফলে সবকিছুই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়লে এই অঘটনের পেছনে কোন শক্তি আর কেনই বা ঘটল বিগ ব্যাং? এই শক্তির প্রমাণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা গবেষকেরা দাঁড় করাতে পারেননি।
গত শতকের আশির দশকে পদার্থবিজ্ঞানী অ্যালেন গোথ বিগ ব্যাং থিওরির বর্ধিত সংস্করণ উপস্থাপন করলেন; যাকে বলা হয় ইনফ্ল্যাশনারি কসমোলজি বা স্ফীতিতত্ত্ব। তাঁর তত্ত্বে উঠে এল মহাজাগতিক এক জ্বালানির তথ্য, যা এই বিগ ব্যাং ঘটাতে পারে। আর এই জ্বালানির ফলে মহাজাগতিক বিস্ফোরণে বেলুনের মতো স্ফীত হতে শুরু করে মহাবিশ্ব। বিগ ব্যাং তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আশির দশকে ইনফ্ল্যাশন বা স্ফীতিতত্ত্ব নিয়ে পদার্থবিজ্ঞানের প্রান্তিক গণিতগুলো সমাধান করতে গিয়েই এই অদ্ভুত ব্যাপারটি ক্রমেই বেরিয়ে আসছিল। এ সময়কার গবেষক আলেকজান্ডার ভিলেঙ্কিন এবং আদ্রে লিন্ডে খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন মহাজাগতিক স্ফীতি একবার শুরু হলে আর থামে না। এ ব্যাপারটিকেই বিজ্ঞানীরা বর্তমানে ‘চিরন্তন স্ফীতি’ নাম দিয়েছেন। অনন্ত মহাবিশ্বের ধারণা মূলত এই চিরন্তন স্ফীতিতত্ত্বেরই স্বাভাবিক একটি গাণিতিক পরিণতি। আমাদের মহাবিশ্ব যদি কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মধ্য দিয়ে স্থান-কালের শূন্যতার ভেতর দিয়ে আবির্ভূত হয়ে থাকে, তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি কিন্তু একাধিকবার ঘটতে পারে। সৃষ্টির উষালগ্নে স্ফীতির মাধ্যমে সম্প্রসারিত বুদবুদ থেকে আমাদের মহাবিশ্বের মতোই অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হয়েছে, যেগুলো একটা অপরটা থেকে পৃথক।
মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের আবিষ্কার বৈপ্লবিক হলেও সম্প্রসারণের একটি বিষয়ে সব গবেষকেরা একমত। পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যেমন কোনো বলকে ওপরের দিকে যেতে বাধা দেয়, তেমনি প্রতিটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে বিদ্যমান আকর্ষণ বলও মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ১৯৯০ সালে জ্যোতির্বিদদের দুটি দল সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ ধীরগতির তথ্য বের করেন। বিভিন্ন ছায়াপথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষকেরা মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের একটি নির্দিষ্ট গতি বের করেন। এই বিশ্লেষণ শেষ হলে তাঁরা লক্ষ করলেন ৭০০ কোটি বছর আগে থেকে এই মহাবিশ্বের মধ্যে সম্প্রসারণের গতি বেড়ে গেছে। অর্থাত্ মহাবিশ্ব এখন কেবল সম্প্রসারিত হচ্ছে। শূন্যে কোনো বল যদি নিক্ষেপ করা হয়, প্রথমে যেমন এর গতি কম থাকে, এরপর হঠাত্ করেই যদি রকেটের গতি পায়—এমন অবস্থা এ মহাবিশ্বের। এখানে প্রশ্ন উঠছে, মহাবিশ্বকে কোন শক্তি এভাবে একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং মহাজাগতিক সম্প্রসারণের গতি আরও দ্রুততর করছে? এই প্রশ্নটির উত্তর পেতে আবারও ফিরতে হচ্ছে আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটির কাছেই। একটি অদৃশ্য শক্তি, যাকে আমরা ‘ডার্ক এনার্জি’ বলছি, এটাই বিশ্বের সম্প্রসারণের কারণ। গবেষকেরা বর্তমান সময়ে ডার্ক এনার্জি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করছেন। তবে এখনো গবেষণার উপসংহারে পৌঁছে ডার্ক এনার্জির বিস্তারিত জানাতে পারেননি তাঁরা।
অনন্ত এই মহাবিশ্বের ধারণা ষোড়শ শতকের পুরোনো। বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার দূরত্ব নিয়ে যে গবেষণা শুরু করেছিলেন। ৯৩ মিলিয়ন মাইলের নির্দিষ্ট এই দূরত্বের মধ্যে কী রহস্য রয়েছে, এই গবেষণা নিয়ে কেপলার গলদঘর্ম হলেও আমরা এখন জানি, এই দূরত্বের মধ্যে কী রয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, প্রাণের ধারণের উপযোগী পরিবেশ হিসেবে এই দূরত্ব প্রয়োজন। এখানেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও শক্তির উত্স রয়েছে, যা প্রাণ ধারণের জন্য উপযুক্ত। এই দূরত্বতত্ত্বটিই গবেষকদের কাছে ডার্ক এনার্জিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আমাদের সেরা মহাজাগতিক তত্ত্বটির নাম স্ফীতিতত্ত্ব অন্যান্য বিশ্বের ক্ষেত্রে দূরত্বের কথা বলে। যেখানে বিভিন্ন দূরত্বে বিভিন্ন গ্রহ তাদের নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এখানে এ রকম অনেক বিশ্ব রয়েছে এবং বিভিন্ন পরিমাণ ডার্ক এনার্জিও রয়েছে। পদার্থবিদ্যায় ডার্ক এনার্জির নির্দিষ্ট গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে বলা আর নির্দিষ্ট গ্রহের মধ্যকার দূরত্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলার মতোই ভুল পথে যাওয়া। তার চেয়ে সঠিক প্রশ্নটি হতে পারে, আরও অনেক সম্ভাব্য কারণ থাকতেও মানুষ কেন নির্দিষ্ট পরিমাণ ডার্ক এনার্জি-বিশিষ্ট বিশ্বে নিজেদের আবিষ্কার করল?
গবেষকদের কাছে এই প্রশ্নটির উত্তর তৈরি রয়েছে। তাঁরা বলেন, বিশাল ডার্ক এনার্জিযুক্ত বিশ্বে মহাজাগতিক বস্তু যখন গুচ্ছ আকারে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ তৈরির জন্য একজোট হয়, তখন ডার্ক এনার্জির প্রবল শক্তি এগুলো ছিটকে ফেলে এবং গ্যালাক্সি তৈরিতে বাধা দেয়। যে বিশ্বের ডার্ক এনার্জি যতটা কম, সেখানে বস্তুগুলোকে ধাক্কা দেওয়ার বা ছিটকে ফেলার পরিবর্তে আকর্ষণ করে ও গঠনে বাধা দেয়। তাই বিশ্ব গঠনে সঠিক পরিমাণ ডার্ক এনার্জির অস্তিত্বের প্রয়োজন পড়ে।
তবে মানুষ এমন একটি বিশ্বে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে, যেখানে প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ গড়ে উঠেছে। ডার্ক এনার্জি রহস্যের সমাধান করতে মাল্টিভার্স বা অনন্ত এই মহাবিশ্বের প্রশ্নের একটা সমাধান হতে পারে। ডার্ক এনার্জি তত্ত্বের সফলতা আবার নির্ভর করছে মাল্টিভার্সের মধ্যে বিভিন্ন পরিমাণে ডার্ক এনার্জি থাকার বিষয়টির ওপর। আর এ কারণেই গবেষণার তৃতীয় প্রান্তিকে এসে দেখা মেলে স্ট্রিং তত্ত্বের। বর্তমানকালের পদার্থবিজ্ঞান দুটো মৌলিক স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি হলো আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা এবং অন্যটি হলো কণাবাদী বলবিদ্যা। আপেক্ষিকতা একটা অসাধারণ সূত্র। এটি দিয়ে গ্রহ, নক্ষত্র, নীহারিকা, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণশীলতা, স্থান-কালের মতো ব্যাপারগুলো চমত্কার ব্যাখ্যা করা যায়। একইভাবে আণুবীক্ষণিক কণাগুলোর ক্ষেত্রে কণাবাদী বলবিদ্যা খুব কার্যকর। তারা উভয়ই সঠিক বলে প্রমাণিত।
স্ট্রিং তত্ত্ব হচ্ছে, আইনস্টাইনের ইউনিফায়েড থিওরি বা একীভূত করার তত্ত্ব, যেখানে তিনি সব বস্তু ও বলকে একটি গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে এক করার চেষ্টা করেছেন। পদার্থের গঠনকাঠামো ব্যাখ্যা করার কষ্টসাধ্য এই বিষয়টিকে চমত্কার ও সরলভাবে উপস্থাপন করা যায় স্ট্রিং তত্ত্ব দ্বারা। অতিপারমাণবিক কণা দিয়ে সব ধরনের পদার্থ, সর্বোপরি মহাবিশ্বের সৃষ্টিকে আসলে তুলনা করা যায় বেহালার তার বা ড্রামের মেমব্রেনের মাধ্যমে সুর সৃষ্টির সঙ্গে। পদার্থবিজ্ঞানীরা ইলেকট্রনকে গণ্য করেন অতিক্ষুদ্র একটি মৌলিক কণা হিসেবে। স্ট্রিং তত্ত্ব মতে, ইলেকট্রনের ভেতরটা যদি অত্যাধুনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখা সম্ভব হতো, তাহলে আমরা কোনো কণা দেখতাম না, আমরা দেখতাম কম্পিত এক তার। অর্থাত্ বর্তমানে পাওয়া মৌলিক কণাগুলো আসলে মৌলিক নয়, এরাও বিভাজ্য। এটাকে আমাদের কণা বলে মনে হয়, কারণ আমাদের যন্ত্রগুলো এত সূক্ষ্ম পরিমাপ উপযোগী নয়। এই অতিক্ষুদ্র তারগুলোই আসলে ভিন্ন ভিন্ন কম্পাঙ্কে স্পন্দিত ও অনুরণিত হয়। আমরা যদি একটি অতিপারমাণবিক কণার সূক্ষ্ম তারের কম্পনের হার পরিবর্তন করে দিই, তাহলে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের আরেকটি অতিপারমাণবিক কণা সৃষ্টি হবে। ধরা যাক কোয়ার্ক। এখন সেটি যদি আবার পরিবর্তন করি, তাহলে হয়তো পাওয়া যাবে নিউট্রিনো। সংগীতে আমরা যেমন ভায়োলিন বা গিটারের তার কাঁপিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নোট সৃষ্টি করি, অতিপারমাণবিক কণাগুলোও সে রকম ভিন্ন ভিন্ন নোট। সুতরাং অসংখ্য অতিপারমাণবিক কণাকে শুধু একটি বস্তু দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব, সেটা হলো স্ট্রিং বা তার!
স্ট্রিং তত্ত্ব ডাইমেনশনের বা মাত্রার ধারণাও পরিবর্তন আনে। এতে আপেক্ষিকতা আর কণার বলবিদ্যার একটা পুরোনো বিরোধ মীমাংসার দিকে এগিয়ে যায়। গবেষকেরা ধারণা করছিলেন, স্ট্রিং তত্ত্ব গাণিতিক কাঠামো হয়তো সবকিছু একই সংজ্ঞার আওতায় আনতে পারবে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও এই তত্ত্বের গাণিতিক সূত্র নিয়ে নানা বিশ্লেষণ করে নানা ফল পেলেন গবেষকেরা। সবাই আলাদাসংখ্যক মহাবিশ্বের সন্ধান পেলেন। আর এই মহাবিশ্বের সংখ্যা এতটাই বেশি হতে পারে যে ১০-এর পর ৫০০ টিরও বেশি শূন্য হলে যে সংখ্যা দাঁড়ায়, তার সমান। স্ট্রিং তত্ত্বের মাধ্যমে অনন্য বা একক মহাবিশ্ব খুঁজতে ব্যর্থ হয়ে তাঁরা মাল্টিভার্স বা অনন্ত মহাবিশ্বের গুরুত্ব নিয়ে ভাবতে বসেন। মাল্টিভার্সের এই বিষয়টি অনেকটাই জুতার দোকানের মতো, যেখানে সব ধরনের পায়ের মাপের জুতা পাওয়া যায়। আর এ অনন্ত মহাবিশ্বে আমাদের বিশ্ব নির্দিষ্ট পরিমাণ ডার্ক এনার্জির অস্তিত্বের জন্য উপযুক্ত স্থানে রয়েছে। এখানে অবশ্য স্ফীতিতত্ত্বের সঙ্গে বিরোধ ঘটে যায়। স্ফীতিতত্ত্বে বলা হয়, বিগ ব্যাংয়ের ফলে অসংখ্য বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে একই রকম বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশ্ব রয়েছে। অর্থাত্ জুতার দোকানে কেবল একই আকারের জুতাই পাওয়া যাবে। যে মাপের জুতা খোঁজ করা হবে, সে ধরনের জুতার অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে।
এর পর গবেষকেরা স্ফীতিতত্ত্ব ও স্ট্রিং তত্ত্ব একসঙ্গে করে সমাধানে চেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন, অনন্ত এই মহাবিশ্বের সংখ্যা অসংখ্য। স্ফীতিতত্ত্ব ও স্ট্রিং তত্ত্বের সমন্বয়ে অসংখ্য মহাবিশ্বের মধ্যে একটি পর একটি বিগ ব্যাংয়ের ফলে আমাদের মতো বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। আর বিশেষ বিশ্ব তৈরিতে যে বৈশিষ্ট্য লাগে বা প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশযুক্ত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বের সৃষ্টি তারই একটি ঘটনামাত্র।
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো দাবির জন্য পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ হাজির করতে হয়। মাল্টিভার্সের ক্ষেত্রে সেই যথেষ্ট প্রমাণ কি জোগাড় করা গেছে? আমাদের বিশ্বেরই যখন অনেক কিছু এখনো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি, সেখানে অন্যান্য বিশ্ব পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ইতিবাচক কোনো উত্তর নেই। তাহলে অনন্ত এই মহাবিশ্বের দাবি কি কেবল অনুমাননির্ভর, যা বিজ্ঞানের আওতায় পড়ে না? গবেষকেরা এখনই অবশ্য হাল ছাড়ছেন না বা ব্যাখ্যাতীত বলে উড়িয়েও দিচ্ছেন না। গবেষকেরা টেনে আনছেন ব্ল্যাকহোলের (কৃষ্ণবিবর) উদাহরণ। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব ব্যবহার করে ব্ল্যাকহোলের মধ্যে কী ঘটছে, সে ব্যাখ্যা যদি বিজ্ঞানের মধ্যে পড়ে, তবে মাল্টিভার্সও কেন নয়? কৃষ্ণবিবর বা ব্ল্যাকহোল বিষয়ে তো কেউ পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষা লব্ধ প্রমাণ হাজির করেননি।
এখন পর্যন্ত ব্ল্যাকহোলের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ এ থেকে আলো বিচ্ছুরিত হতে পারে না কিন্তু এর উপস্থিতির প্রমাণ আমরা পরোক্ষভাবে পাই। ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্বের প্রমাণ কোনো স্থানের নক্ষত্রের গতি এবং দিক দেখে পাওয়া যায়। এই তত্ত্বটিরও কোনো পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। অর্থাত্ কেবল অনুমাননির্ভর। এভাবে মাল্টিভার্স নিয়ে যদি অনুমান ও আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে এ তত্ত্বও সত্য হতে পারে।
অনুমাননির্ভর হলেও এখন পর্যন্ত ডার্ক এনার্জির বিস্তার ও মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনের তারতম্য নিয়ে স্ফীতিতত্ত্বের ব্যাখা সঠিক মনে করেন গবেষকেরা। শক্তিশালী দুরবিন ও কণা নিয়ে পরীক্ষা করার যন্ত্রেও স্ট্রিং তত্ত্ব পর্যবেক্ষণের সুযোগ ও প্রযুক্তি না থাকায় এখনো তত্ত্বেই রয়ে গেছে। এ দুটি তত্ত্বের পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ না থাকলেও গবেষকেরা বলছেন, মাল্টিভার্সের আরেকটি প্রত্যক্ষ প্রমাণ হতে পারে আমাদের মহাবিশ্বের সঙ্গে প্রতিবেশী মহাবিশ্বের সংঘর্ষ। এই দুইয়ের সংঘর্ষে যে তাপ উত্পন্ন হয়, সে তাপের তারতম্য এখন বোঝা না গেলেও ভবিষ্যতে হয়তো শক্তিশালী টেলিস্কোপে তা শনাক্ত করা যাবে। অনেক গবেষকই মাল্টিভার্স খোঁজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনাকে সমর্থন দিয়েছেন।
নিউটন যখন আপেল গাছের নিচে বসে ছিলেন, তখন তিনি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সূত্র আবিষ্কার করতে বসেননি। মাথায় আপেল পড়ার পর তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছিল, আপেল নিচে পড়ল কেন? উপরেও তো যেতে পারত? নিউটন আপেল নিচের দিকে পড়ার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির তারতম্য সহজেই সবার বোধগম্য হলো। কিন্তু আপেলগুলো আরও আগেই মহাশূন্যে রওনা হয়ে গেছে কি না, সে রহস্যের কিনারা হয়নি। এই রহস্য উদ্ধারে আরও নিবিড়ভাবে ভাবছেন গবেষকেরা। বিষয়টি নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক গবেষণা চলবে। কারণ আমাদের প্রতিবেশী কোনো বিশ্বের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি আরও কৌতূহল জাগিয়ে রাখবে।

বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই, ২০১২

ভাইরাসে লুকানো পেনড্রাইভের ফাইল উদ্ধার

অনেক সময় দেখা যায়, পেনড্রাইভে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে পেনড্রাইভের ফাইল আর দেখা যায় না। কিন্তু ফাইলগুলো পেনড্রাইভের জায়গা দখল করে রাখে। সেই লুকানো ফাইলগুলো দেখার জন্য প্রথমে My computer-এ মাউস রেখে ডান বাটনে ক্লিক করে Properties-এ যান। এখন System Restore-এ ক্লিক করে Turn off System Restore on all drives-এ টিক চিহ্ন দিয়ে ok ক্লিক করুন। নতুন একটি উইন্ডো এলে সেটির yes-এ ক্লিক করুন। এখন My Computer-এর মেনুবারের Tools থেকে Folder options নির্বাচন করে View-তে ক্লিক করুন। এখন Show hidden files and folders-এ টিক চিহ্ন দিন এবং Hide extensions. ও Hide protected.. বক্স থেকে টিক চিহ্ন তুলে দিয়ে ok করুন। এখন দেখবেন পেনড্রাইভে আপনার ফাইল, ফোল্ডারগুলো লুকায়িত (হিডেন) অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এই পদ্ধতিটি উইন্ডোজ এক্সপির জন্য বলা হয়েছে।
পেনড্রাইভে করে কোনো ফাইল বা ফোল্ডার অন্য কোনো কম্পিউটারে নিতে চাইলে সেগুলো জিপ করে নেবেন। জিপ করা ফাইল বা ফোল্ডারে ভাইরাস আক্রমণ করে না। কোনো ফাইল বা ফোল্ডার জিপ করতে চাইলে সেটিতে মাউস রেখে ডান বাটনে ক্লিক করে Send to Compressed (Zipped)-এ ক্লিক করুন। দেখবেন জিপ হয়ে গেছে। আবার আনজিপ করতে চাইলে সেটিতে মাউস রেখে ডান বাটনে ক্লিক করে Extract All-এ ক্লিক করে পরপর দুইবার Next-এ ক্লিক করে দেখবেন আনজিপ হয়ে গেছে।

বুধবার, ৪ জুলাই, ২০১২

তুলার টি-শার্টে মোবাইল ফোন চার্জ!

স্মার্টফোনের চার্জ ফুরিয়ে গেলে অদূর ভবিষ্যতে পরিধেয় টি-শার্টটির সঙ্গে কেবল চার্জার জুড়ে দিলেই চলবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা টি-শার্টের সুতায় বিদ্যুত্শক্তি সংরক্ষণ করে রাখার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এ ধরনের পোশাক তৈরির ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী।
এক খবরে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পরিধেয় পোশাক ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি চার্জ করা যাবে। সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন প্রকৌশলী তুলার তৈরি টি-শার্টে ‘সুপার ক্যাপাসিটর’ বা বৈদ্যুতিক শক্তি সংরক্ষণ করার পদ্ধতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
২৬ জুন সংখ্যার অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস সাময়িকীতে এ গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক জিয়াওডং লি এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন তন্তু বা সূতার তৈরি পোশাক পরি। একদিন তুলার তৈরি টি-শার্টে আরও নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হবে।’
গবেষক লি তুলার তৈরি একটি টি-শার্ট পরীক্ষাগারে নিয়ে আসেন। এর পর তা তরল রাসায়নিকে ডুবান। টি-শার্টটি রোদে শুকানোর পর সেটি ওভেনে গরম করতে দেন। তিনি দেখেন, টি-শার্টটি যথেষ্ট নমনীয় রয়েছে। লি লক্ষ করেন, তুলার তন্তুগুলো সক্রিয় কার্বনে রূপ নিয়েছে, যা ক্যাপাসিটরের মতো বৈদ্যুতিক শক্তি ধরে রাখতে পারে। আর এই পদ্ধতিটি বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মূলনীতি হিসেবে ব্যবহূত হয়। টি-শার্টকে আরও বৈদ্যুতিক শক্তি ধরে রাখার আধার হিসেবে তৈরি করতে তিনি টি-শার্টের তন্তুর সঙ্গে এক ন্যানোমিটার বা মানুষের চুলের এক হাজার ভাগের এক ভাগ পুরুত্বের ম্যাংগানিজ অক্সাইডের স্তর যুক্ত করেন। যা শতকরা ৯৫ শতাংশ বৈদ্যুতিক শক্তি সংরক্ষণ করে রাখতে সক্ষম।
গবেষক জিয়াওডং লির দাবি, ‘এই পদ্ধতিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় না, তাই এটি পরিবেশবান্ধব। এ ধরনের তন্তুতে তৈরি পোশাক ব্যবহার করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রে চার্জ করা সম্ভব হবে।’

‘হিগস-বোসন’ কী?

পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ও সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামে নামকরণ করা হিগস বোসন কণাটি এখনো অনাবিষ্কৃত। হিগস ১৯৬৪ সালে শক্তি হিসেবে এমন একটি কণার ধারণা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে। এর ফলে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়। এ কণাটিই ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিতি পায়।
অতিপারমাণবিক কণা হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমাণ এখন সময়ের ব্যাপার। কয়েক দশকের সতর্ক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এমন দাবিই করছে একদল পদার্থবিজ্ঞানী। এই ‘ঈশ্বর কণার’ অস্তিত্ব জানা গেলে স্থান, কাল ও বস্তু সম্পর্কে মিলবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বলে মনে করেন পদার্থবিদেরা। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হিগস-বোসন কণার সহজ ব্যাখ্যা দিয়েছেন ‘ম্যাসিভ: দ্য হান্ট ফর দ্য গড পার্টিকেল’ বইয়ের লেখক ইয়ান স্যাম্পল।

মঙ্গলবার, ৩ জুলাই, ২০১২

পেনড্রাইভ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী পেনড্রাইভ। ডাটা স্থানান্তরের জন্য যখন কম্পিউটারে পেনড্রাইভ লাগানো হয় তখন অনেক সময় পেনড্রাইভ অটো ওপেন হয়ে যায় এবং পেনড্রাইভে ভাইরাস থাকলে তা কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে। পেনড্রাইভের অটোরান বন্ধ করে দিলে এবং পেনড্রাইভ না খুলে টাস্কবারের নেভিগেটর থেকে বা ফোল্ডার অপশনের মাধ্যমে পেনড্রাইভ ব্যবহার করলে, কম্পিউটারে ভাইরাস তুলনামূলকভাবে কম ছড়াবে।
পেনড্রাইভের অটোরান বন্ধ করার জন্য প্রথমে Start মেনু থেকে Run-এ ক্লিক করে gpedit.msc লিখে ok-তে ক্লিক করুন। যে উইন্ডোটি আসবে সেটিতে User configuration-এর বাম পাশের (+) এ ক্লিক করে Administrative Templates-এর বাম পাশের (+) এ ক্লিক করুন। তারপর System-এ ক্লিক করলে দেখবেন ডান পাশের উইন্ডোতে Turn off Autoplay নামে একটি লেখা এসেছে। সেটিতে ডবল ক্লিক করে Enable নির্বাচন করে Turn off Auto play on অংশে All drives নির্বাচন করে ok করে বেরিয়ে আসুন।

পকেট টিভি!

বাড়িতে থাকা বড় টেলিভিশন সেটটিকে যদি ট্যাবলেট কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তাহলে কেমন হবে? টেলিভিশনকে ট্যাবলেট ও মোবাইল ফোন হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে ছোট আকারের একটি ইউএসবি-সদৃশ পণ্যের সাহায্যে। পণ্যটির নাম ‘পকেট টিভি’।
দুবাইভিত্তিক ইলেকট্রনিক পণ্যনির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনফিনিটেক ‘পকেট টিভি’ নামের এই যন্ত্রটি উদ্ভাবনে কাজ করছে। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবল।
পকেট টিভি নামের এ পণ্যটি টেলিভিশনের এইচডিএমআই পোর্টে লাগিয়ে দিলেই টেলিভিশনটি ট্যাবলেট কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের কাজ করতে সক্ষম হবে।
পকেট টিভির অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহূত হবে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ আইসক্রিম স্যান্ডউইচ। এর ফলে স্মার্টফোন ব্যবহার করে যে কাজ করা সম্ভব, টেলিভিশনের স্ক্রিনেও সেই একই কাজ করা সম্ভব হবে।
পকেট টিভির দাম হবে ১৬০ ডলার। ইনফিনিটেক জানিয়েছে, এ বছরের অক্টোবর মাস নাগাদ পকেট টিভি আন্তর্জাতিক বাজারে চলে আসবে।

মুঠোফোনের জন্য ব্রাউজার

যারা জাভা-সমর্থিত মুঠোফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য বেশ কাজের একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার হলো বোল্ট ব্রাউজার। বোল্ট ব্রাউজার ব্যবহার করে মুঠোফোনের ছোট পর্দাতেই কম্পিউটারের মতো পুরো ওয়েবপেজ দেখা সম্ভব। ব্রাউজিং করার সময় ডাটা ট্রান্সফারের গতিও বেশ ভালো। বোল্ট ব্রাউজার ব্যবহার করার সময় কম্পিউটারের ব্রাউজারের মতো মাল্টি ট্যাবে কাজ করার সুবিধা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে একাধিক ট্যাবে কাজ করা যায়। ব্রাউজারটি চাইলে ল্যান্ডস্কেপ মোডেও ব্যবহার করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সাহায্যে ওয়েবসাইটের বাংলা লেখাও পড়া যায়। এই ব্রাউজারের আরেকটি সুবিধা হলো এতে বিল্ট-ইন মিডিয়া প্লেয়ার রয়েছে, যার সাহায্যে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ভিডিও ফাইল দেখা যায় ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা অবস্থায়ই। বোল্ট ব্রাউজারের নিজস্ব ডাউনলোড ম্যানেজার যেকোনো ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রেও কিছু বিশেষ সুবিধা দেয়, যা অন্য কোনো মুঠোফোনের ব্রাউজার সাধারণত দেয় না। ইচ্ছেমতো ডাউনলোড শুরু ও বন্ধ করা যায় এর সাহায্যে। সেই সঙ্গে ডাউনলোড চালু অবস্থায় ব্রাউজার একবার বন্ধ করে পরে আবার ব্রাউজার চালু করলে ডাউনলোড সেখান থেকেই শুরু হয় যেখানে বন্ধ হয়েছিল। বোল্ট ব্রাউজারের ইউজার ইন্টারফেসটিও বেশ সাদামাটা হওয়ায় নতুন ব্যবহারকারীরা সহজেই এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই। ২৭০ কিলোবাইটের বোল্ট ব্রাউজার ২.৫২ সংস্করণ বিনা মূল্যে নামিয়ে নিতে পারেন http://goo.gl/jlxZU ঠিকানা থেকে।

রবিবার, ১ জুলাই, ২০১২

মোবাইল ফোন শুধু ‘কথা’র নয় কাজেরও!

মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ কী? নিশ্চয় কথা বলার যন্ত্র হিসেবে কথা বলাটাই মূল কাজ হওয়া উচিত। কিছুদিন আগে পর্যন্ত এটাই মুঠোফোনের মূল কাজ ছিল। তবে এখন আর কেবল কথা বলার চৌহদ্দিতেই মোবাইল ফোন সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যত ধরনের কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহূত হয়, ‘কথা বলার যন্ত্র’ হিসেবে মোবাইল ফোনের ব্যবহার তার মধ্যে পঞ্চম। এক খবরে ডেইলি মেইল এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওটু’ প্রায় দুই হাজার স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে জরিপ চালিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, মোবাইল ফোন এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয় ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে। এরপর ফেসবুক, গেম ও গান শোনার জন্য। এই চারটির পরের অবস্থানে রয়েছে কথা বলার বিষয়টি।
যুক্তরাজ্যে চালানো এ জরিপে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা দিনের মধ্যে গড়ে ১২ মিনিট মোবাইল ফোনে কথা কথা বলেন । তুলনামূলকভাবে গড়ে দুই ঘণ্টা ব্যয় করেন অন্যান্য কাজে।
মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মেসেজ বা বার্তা পাঠানোর বিষয়টি একসময় জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু বার্তা পাঠানোর মাত্রা এখন অনেক কমেছে। খুদে বার্তায় এখন দিনের মধ্যে সময়ের হিসাবে মাত্র ১০ মিনিট ব্যয় করেন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা। দিনের সবচেয়ে বেশি সময়, ২৫ মিনিট ব্যয়িত হয় ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে আর ১৭ মিনিট ব্যয় করা হয় ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের পেছনে।
জরিপের ফল জানাচ্ছে, স্মার্টফোনের ব্যবহার অ্যালার্ম ঘড়ি, হাতঘড়ি, ক্যামেরা, ডায়েরি, টেলিভিশন ও ল্যাপটপের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। ৫৪ শতাংশ অ্যালার্ম ঘড়ির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে মোবাইল ফোন। ৪৬ শতাংশ হাতঘড়ি ও ৩৯ শতাংশ ক্যামেরার ব্যবহার কমিয়েছে স্মার্টফোন।
ওটুর সাধারণ ব্যবস্থাপক ডেভিড জনসন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বর্তমানে স্মার্টফোন হচ্ছে ‘সুইস নাইফ’-এর মতো, যার বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এখন আর কেবল কথা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মানুষ এখন বিভিন্ন বস্তুর বিকল্প হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহার করছে।

শর্মিলার বিয়ের পোশাকেই কনে সাজবেন কারিনা!

কারিনা কাপুর-সাইফ আলী খানের বহুল আলোচিত বিয়ের দিনক্ষণ থেকে অনুষ্ঠানের যাবতীয় বিষয়-আশয় নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার শেষ হতে চলেছে। এর আগে বিয়ের দিনক্ষণ জানা গেলেও বিয়ের পোশাকটি কী হবে, কোন ডিজাইনারই বা তা বানাচ্ছেন-এসব নিয়ে বিভিন্ন গল্প ডানা মেলছিল। অবশেষে জানা গেছে, শর্মিলা ঠাকুরের বিয়ের পোশাকেই বউ সাজবেন কারিনা কাপুর।
বলিউডপাড়ায় বছরের সবচেয়ে আলোচিত বিয়ের আসর বসতে যাচ্ছে ১৬ অক্টোবর। এদিন গাঁটছড়া- বাঁধবেন বহুল আলোচিত তারকাজুটি সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুর। বিয়ের প্রস্তুতি, বর-কনের পোশাকের বর্ণনাসহ তঁাদের বিয়ের খঁুটিনাটি জানার জন্য সবার ব্যাপক আগ্রহ আর সেই আগ্রহের রসদ জোগাতে সদা তত্পর মিডিয়াপাড়া।
পঁাচ বছর আগে সাইফের সঙ্গে প্রেম করা শুরু করেছিলেন কারিনা। এ সময়ে বেশ কয়েকবারই তঁাদের বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। অবশেষে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তঁারা। এখন বিয়ের বাজার নিয়ে লন্ডনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিনা।
সবাই ধরে নিয়েছিলেন, পছন্দের ডিজাইনার মণীষ মালহোত্রার নকশা করা পোশাকে বিয়ের আসরে দেখা যাবে কারিনাকে। কিন্তু সবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে শর্মিলা ঠাকুরের বিয়ের পোশাক `সারারা' পরার সিদ্ধান্ত` নিয়েছেন বলিউডের কাপুর খানদানের কনিষ্ঠ এ সদস্য।
৪৩ বছর আগে এই `সারারা' পরেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। পুরোনো এই পোশাকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে এতে কিছুটা পরিবর্তন আনবেন শর্মিলার পছন্দের ডিজাইনার ঋতু কুমার।

শ্বাস ছাড়া বাঁচা !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া ছাড়াই রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার নতুন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। নতুন এ পদ্ধতিতে রোগীকে অক্সিজেন মাস্কের পরিবর্তে সরাসরি তার রক্তে অক্সিজেন ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেনের স্বাভাবিক প্রবাহ চালু রেখে হূিপণ্ড ও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিত্সা সম্ভব। এক খবরে হাফিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন চিলড্রেন হাসপাতালের চিকিত্সকেরা ছোট আকারের এই অক্সিজেন ইনজেকশন তৈরি করেছেন। গবেষকেদের দাবি, এ ইনজেকশনের মাধ্যমে অক্সিজেন সরাসরি রক্তে মিশে যায়। ফলে রোগী শ্বাস নিতে না পারলেও তার রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ চলতে থাকে। রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকলেও এ ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
সায়েন্স ট্রান্সসেশনাল মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে গবেষক জন খেয়ার জানিয়েছেন, এই ইনজেকশনটি এরই মধ্যে প্রাণীদেহে প্রয়োগ করে সফল হয়েছেন তাঁরা। ১৫ মিনিট পর্যন্ত শ্বাস নিতে না পারলেও প্রাণীরা এই ইনজেকশনের সাহায্যে বেঁচে ছিল।
গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, ১৯৯০ সালের দিকে রক্তে সরাসরি অক্সিজেন দেওয়ার এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে রক্তে গ্যাসের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে এই পদ্ধতি বাতিল করা হয়। তবে বর্তমানে গবেষকদের দাবি, আগের সমস্যা কাটিয়ে এই ইনজেকশন এখন মানুষের জীবন বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।